
সুনামগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শ্রাবণকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তিন দিন পর শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের দাসহাটি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার শ্রাবণ সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব সুলতানপুর এলাকার জুনাব আলীর ছেলে।সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি শ্রাবণ দিরাই থানার প্রত্যন্ত এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রতন শেখের নির্দেশনায় অভিযান চালানো হয়। এসআই ইকবাল ও এসআই পলাশের নেতৃত্বে দিরাই থানা পুলিশের সহায়তায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় দুই ঘণ্টা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদীপথ পাড়ি দিয়ে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের দাসহাটি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে খাটের নিচ থেকে শ্রাবণকে গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের প্রিয়াঙ্গণ মার্কেটের সামনে সড়কে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার ঘটনা ঘটে। স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন মো. এমদাদুল হক শাহজাহান। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্য।
এ ঘটনায় আহত শাহজাহানের শ্যালক জুনায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পূর্ব সুলতানপুর এলাকার সৈয়দ আলীর ছেলে জুনাব আলী (৫৫), তার ছেলে শ্রাবণ (২১), হাছননগর এলাকার মুহিবুর রহমানের ছেলে সায়মন (২০) এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনের ছেলে হিমেল। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আহত শাহজাহানের নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলে এহসানুল হক কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তদের মারধরের শিকার হন। বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর মঙ্গলবার বিকেলে এহসানুল হক শহরের হাছননগর ময়নার পয়েন্টে তার খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
প্রিয়াঙ্গণ মার্কেটের সামনে পৌঁছালে আসামিরা তাকে ঘেরাও করে এবং থানায় কেন অভিযোগ করা হয়েছে, তার কৈফিয়ত চান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। খবর পেয়ে তার বাবা শাহজাহান ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে আটকে রাখার কারণ জানতে চাইলে আসামিরা রড, হেক্সো ব্লেডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে শাহজাহান গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রতন শেখ শ্রাবণকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আলোচিত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’